The real world is here... for the imagination go there Figments of Imagination
Showing posts with label nonsense. Show all posts
Showing posts with label nonsense. Show all posts

Monday, December 17, 2012

Catching cold - a different perspective

সর্দি একটা খুব বাজে জিনিস । মানুষের সর্দি হলে মানুষ কত কি না করে । ঘন ঘন রুমালে নাক ঝাড়ে । নাক বন্ধ হয়ে হাঁস ফাঁস করে । নাকি নাকি অদ্ভুদ ভাবে কথা বলে । তারপর অনেক অসুধ খায় । যদিও এক ডাক্তারকে বলতে শুনেছিলাম "অসুধ খেলে সর্দি ৭ দিনে সেরে যায়, না খেলে এই ১ সপ্তাহ লাগে ।" তবে যাই হোক সর্দি হলে মানুষ অন্তত আমাদের মত অসহায় হয়ে পড়ে না ।

ধর তোমার সর্দি হলো । তা তুমি তো ভাই তোমার শতকরা ৯০% তথ্য পাও চোখ দিয়ে দেখে । শুধু দু দিন গন্ধ পেলে না তাতে কি বা এমন এসে গেল । বরঞ্চ পঁচা ড্রেনের গন্ধ না পেয়ে বেঁচে গেলে । আর আমরা কুকুররা আমাদের বেশির ভাগ তথ্য পাই নাক দিয়ে শুঁকে । তোমরা তো জানোই আমাদের নাকের ক্ষমতার জোরে আমরা আজকাল পুলিশেও চাকরি করছি । ও বলতে ভুলে গেছি আমিও কিন্তু dog squad এর পুলিশ কুকুর । তো আমার মত কারো যদি সর্দি হয়, তাহলে ভাব তো কি বিপদ । একেবারে চোখ থাকিতেও অন্ধ দশা । তারপর আবার চাকরি নিয়ে টানাটানি । আমরা তো আবার তোমাদের মত ছুটির দরখাস্ত লিখতে পারি না ।

তাই সর্দি নিয়ে রোজকার মত আজও অফিস গেছি । গিয়ে দেখি একেবারে হুলুস্থুল কান্ড । কোথায় নাকি একটা বোমা আছে বলে জানা গেছে । কিন্তু বোমা আসলে কোথায় কেউ খুঁজে পাচ্ছে না । এবার আমাকে গিয়ে খুঁজে বার করতে হবে । এবার আমি কি করি ? সর্দি তে তো নাক বন্ধ । গন্ধ তেমন একটা পাচ্ছি না । বোমা খুঁজবো কি করে । নতুন জায়গা - গন্ধ না পেলে তো নিজেকেও খুঁজে পাব না ঠিকঠাক । কিছু একটা গোলমাল করে কেটে পড়ব কিনা ভাবছি তখন আমার হ্যান্ডলার (হ্যান্ডলার হলো একসঙ্গে আমাদের শিক্ষক, গাইড আর বন্ধু । ওরা আমাদের ভাষা মোটামুটি বুঝে ফেলে আর আমাদের সঙ্গে অন্য মানুষের দোভাষীর কাজটাও করে দেয় । আর আমার হ্যান্ডলার হলো রনি নামের দারুন একটি লোক) এসে পড়ল । এসে আমায় বোঝাতে লাগলো কি করে এক বাচ্চাদের স্কুলে এক সন্ত্রাসী একটি বোমা লুকিয়ে রেখেছে । বোমা খুঁজে বের করতে না পারলে তো সর্বনাশ ! এদিকে যে আমার আবার সর্দি । আর অন্য পুলিশ কুকুর যারা আমার বন্ধু তারাও আজ কোথায় একটা চলে গেছে । একেই বলে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয় ।

যাই হোক, "সর্দির পরওয়া করিনা । বাচ্চাদের জন্যে জীবন দিয়ে দেব ।" এসব ভেবে নিজেকে গরম করে নিলাম । তারপর আমার গুরুদেব সেই বিখ্যাত কুট্টুস (Snowy হলো ইংরেজি নাম) এর কথা ভাবতে ভাবতে এগিয়ে চললাম আমার রনির সাথে । 

স্কুলে পৌছে রনি আমায় ছেড়ে দিল বোমা খোঁজার জন্যে । আমি এগিয়ে তো গেলাম কিন্তু ভেবে পেলাম না বোমা খুঁজবো কি করে । আমি তো কোনো গন্ধই পাচ্ছি না । তবু এদিক ওদিক দুরে বেরিয়ে বোমাটা খোঁজার চেষ্টা করলাম । জানি কোনো লাভ নেই । অবশ্য একটা ভালো ব্যাপার হয়েছে এর মধ্যে । বাচ্চাদের সব স্কুল থেকে বের করে নিয়ে গেছে । তাই বোমা ফাটলে ওদের ভয় নেই । কিন্তু আমার কি হবে ? আর বাকি সব পুলিশের ? যদি বোমা খুঁজে না পাই ! আর কি বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার । বোমাটা যে কোথায় রেখেছে - কেউ কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছে না ।

তো আমি খুঁজেই চলেছি । এদিক যাই ওদিক যাই । গত স্কুল এক চক্কর ঘোরা হয়ে গেল । দূর ছাই, আমরা এখান থেকে পালিয়ে যাই না কেন । তারপর যত খুশি বোমা ফাটুক, আমি তো আর মরব না । আমার বড় দুঃখ হলো রনির কথা ভেবে । বেচারা আমার জন্যে শেষকালে প্রাণটা হারাবে । ভাবতে ভাবতে হঠাত দেখি আমার সামনে একটা বাচ্চাদের বইয়ের ব্যাগ । আর তার ভেতর থেকে টিক টিক আওয়াজ আসছে । আর যাবি কোথায় । সঙ্গে সঙ্গে চিত্কার শুরু করলাম । সবাই ছুটে এলো । ব্যাগটা খুলে ফেলল । তারপর আমাদের বোমা স্পেশালিস্ট চিত্কার করে উঠলো, "সবাই পালাও । আর মাত্র ১০ সেকেন্ড পরে বোমা ফাটবে ।" সবাই পরি মরি করে ছুট দেব এমন সময় বোমা ফেটে গেল । আর তার ভেতর থেকে গলগল করে গরম জল বেরিয়ে এসে আমায় ভিজিয়ে দিল ।

অমা দেখি আমার সর্দি হয়েছে বলে রনি আমায় হট ওয়াটার বাথ দিচ্ছে । বোমা টমা কোথায় কি ! সব কি তাহলে স্বপ্ন ?